মানুষিক চাপ কমানোর ১০ টি উপায় | কীভাবে চিন্তা মুক্ত থাকবেন

1
803
জন পড়েছেন
মানসিক চাপ, মানসিক চাপ কমানোর কৌশল

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির উপায়

বাস্তব জীবনে বিভিন্ন কারণে আমরা প্রত্যেকেই কম বেশি মানসিক চাপে থাকি । পারিবারিক সমস্যা বা কর্মক্ষেত্রে জটিলতা, কাছের মানুষের সাথে সম্পর্কের টানাপোডেন, অর্থনৈতিক সঙ্কট, স্বাস্থ্যের অবনতি, এমনকি তারচেয়েও বড় ক্রাইসিস কাছের কোন মানুষের মৃত্যু ।

এই সমস্যাগুল থেকে সৃষ্টি হওয়া দুশ্চিন্তায় যে কার স্বাভাবিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে । বেড়ে যেতে পারে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি । তাই সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে মানসিক চাপ কমানো অত্যন্ত জরুরি । গবেষকরা বলছেন, মানসিক চাপ হৃদযন্ত্রের ক্ষতির অন্যতম কারণ । 

চেষ্টা করুন হাসিখুশি থাকতে, এতে করে ম্যাজিকের মতো কমে যেতে থাকবে আপনার মানসিক চাপ । 

 

 

mental pressure

 

দুশ্চিন্তা, ঠিকমত পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়ামে অনিহার ফলে যে ধরণের শারীরিক ঝুঁকি থাকে, ঠিক একই ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন মানসিক চাপের কারণে ।

আর এই সমস্যাগুলো এমন যে আপনি চাইলেই, চাপমুক্ত থাকতে পারবেন না । আপনাকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে । এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা পরামর্ষ দেন, মানসিক চাপ দূর করতে বন্ধু, পরিবার বা ঘনিষ্ঠজনদের সাহায্য নিন ।

 

প্রয়োজনে মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা খুব জরুরী । পাই ফিঙ্গার্স মোটিভেশনের এই পর্বে আমরা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েকটি সহজ ও কার্যকরী উপায় নিয়ে হাজির হচ্ছি আমাদের জন্য । 

 

১. প্রাণ খুলে হাসুন

হাসার চেষ্টা করুণ । আপনি নিজেই জানেন কে বা কি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিতে পারে । যদি আপনি কমেডি মুভি পছন্দ করেন তাহলে সময় করে মুভি দেখুন । যেখানেই হাসির সামান্য উপলখ্য তৈরি হবে, সেখানেই প্রাণ খুলে হাসুন ।

আপনি যদি ২৫ মিনিট করে টানা তিনদিন ঠিকমতো মেডিটেশন করতে পারেন, তাহলে আপনার হতাশা বা দুশ্চিন্তা অনেকখানিই কমিয়ে ফেলা সম্ভব ।

আপনার যে বন্ধু অথবা কাছের মানুষ সবচেয়ে বেশি হাসাতে পারে আপনাকে, তার কাছে যান । জমিয়ে আড্ডা দিয়ে হাসুন । আপনি অতীতের মজার মজার ঘটনাগুল মনে করে হাসুন । কেন এতো হাসির কথা বলছি? কারণ উচ্চস্বরে হাসলে মানুষের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অক্সিজেন প্রবাহের মাত্রা বেড়ে যায় । আর এতে করে ম্যাজিকের মতো কমে যেতে থাকবে আপনার মানসিক চাপ ।  

 

mental pressure

 

২. আপনার কাছের বন্ধুর সাথে সমস্যা নিয়ে কথা বলুন

সমস্যার কথা কাছের বন্ধুর সাথে শেয়ার করলে কোন সমাধান দিতে পারুক বা না পারুক অন্তত সে আপনাকে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করবে । এতে দুই ধরণের সুবধা পাবেন আপনি । প্রথমত, কারো সাথে শেয়ার করার ফলে আপনার এতদিনের জমে থাকা কথাগুলো বলে ফেলে কিছুটা হলেও নিজেকে ভারমুক্তির অনুভুতি পাবেন । আর অন্যদিকে আপনার এই খারাপ সময়ে একজন মানুষেও যদি পাশে থাকে সেটাও আপনার জন্য অনেক ।

আপনি ঠাণ্ডা মাথায় ভাবার সুযোগ পাবেন । যাদের বন্ধু সংখ্যা বেশি তাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধাটাও বেশি পাওয়া যায় । তবে এমন কোন বন্ধুকে আপনার সমস্যার কথা জানানো থেকে বিরত থাকুন, যে আপনাকে বুঝতে পারে না । যে আপনাকে নিয়ে বরং ঠাট্টা-তামাশা বা উপহাস করবে ।

 

৩.মেডিটেশন

মেডিটেশন মানসিক সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে বড় ঔষধ । নিয়মিত মেডিটেশন করা মানুষ পরিস্থিতি বুঝে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে পারে । মেডিটেশন হচ্ছে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার একটা চর্চা । মেডিটেশনের মাধ্যমে আপনি যেমন নিজেকে বুঝতে পারবেন, নিজের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোর দিকেও মনযোগী হতে পারবেন ।

নিজেকে যতটুকু সম্ভব ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুণ ।

মনের সাথে তৈরি হবে একটি শক্তিশালী বন্ধন । যার মাধ্যমে সচেতনভাবেই আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি অর্জন করতে পারবেন । একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, আপনি যদি ২৫ মিনিট করে টানা তিনদিন ঠিকমতো মেডিটেশন করতে পারেন, তাহলে আপনার হতাশা বা দুশ্চিন্তা অনেকখানিই কমিয়ে ফেলা সম্ভব ।

 

৪.নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

নিজেকে যতটুকু সম্ভব ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুণ । ব্যস্ততা আপনাকে একমুখী করে ফেলবে । আপনি কাজের ভেতর ডুবে যাবেন । তখন আপনার মস্তিষ্ক কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে । মস্তিষ্ক ও হাত একই সাথে ব্যস্ত রাখা যায় এমন কোন কাজ করুণ- যেমন গেইম খেলা ।

চাপ কমাতে মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে জোরে অনেকক্ষণ ধরে শ্বাস নিন । এতে মানসিক চাপের হরমোন ‘কর্টিসল’ ধ্বংস হয়ে যাবে । শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ বেড়ে যাবে । আপনি নিজেকে হালকা অনুভব করতে পারবেন ।

 

৫.পরিস্থিতিকে মেনে নিন

 

সবকিছু সব সময় আপনার পক্ষে নাও থাকতে পারে- এই ব্যাপারাটিকে মেনে নিন । অযথা নেতিবাচক চিন্তা করে নিজের উপর চাপ সৃষ্টি করবেন না । ভেবে দেখুন, আপনি যে সমস্যায় পড়েছেন তার থেকেও বড় বড় সমস্যা থেকে মানুষ উঠে এসেছে ।

মানুষকে ক্ষমা করতে শিখুন ।

success

 

আপনি যে সমস্যা আছেন একই এর চেয়েও বড় সমস্যায় আছে অন্য কেউ । তাই যেটা আপনার অনুকূলে যায়নি, সেটাকে মেনে নিয়েই সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়ান । নিজের ভেতর সাহসী মনোভাব তৈরি করুণ । একটি ছোট উদাহরণ দেই, ধরুন আপনি জ্যামে আটকে আছেন অনেকক্ষণ ধরে । অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে, বসের কথা শুনতে হবে এসব ভেবে অযথাই নিজের উপর চাপ নিচ্ছেন ।

 

তারচেয়ে বরং ভাবুননা, যে জ্যামে তো শুধু আপনি নন । আপনার মতো অনেকেই জ্যামে আটকে আছেন, হয়ত আপনার চেয়েও জরুরী কাজ পড়ে আছে তার । তাই আপনার সমস্যাকে মেনে নিন । দেখবেন চাপ অনেকটাই কমে গেছে । আর একই সাথে নিজের মধ্যে একটি সচেতন পরিবর্তন আসবে যে, পরের দিন আপনাকে আরও আগে বাসা থেকে বের হতে হবে ।     

 

৬. ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলুন

মনের মধ্যে ক্ষোভ জমিয়ে রাখা মোটেও আপনার জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে না । ক্ষোভ দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের সৃষ্টি করে । যেটা আপনার সমস্যা বাড়াবেই । ক্ষোভের প্রভাব যেমন মানসিকভাবে আপনার মধ্যে অস্থিরতার সৃষ্টি করবে, তেমননি শারীরিকভাবেও আপনার বড় ধরণের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে ক্ষোভ ।

ক্ষোভের কারণে আপনার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায় অনেকগুন । তাই মানুষকে ক্ষমা করতে শিখুন । ক্ষমা আপনাকে একজন উদার ও ইতবাচক দৃস্তিভঙ্গির মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে । জীবনে চলার পথে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে ।

 

 

 

৭. প্রকৃতির সাথে সময় কাটান

প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক নিবিড় । একটু খেয়াল করলে দেখবেন যেদিন প্রচণ্ড গরম সেদিন এমনিতে আপনার মন মেজাজ একটু খারাপ থাকে । আবার খুব ভাল সুন্দর আবহাওয়া থাকলে তুলনামুলকভাবে সেদিন আপনার মন অন্য দিনের চেয়ে ভাল থাকে । তাই শত ব্যস্ততার মাঝে সপ্তাহে একদিন দূরে কোথাও ঘুরে আসুন । নিজেকে হালকা লাগবে ।

৮. ব্যায়াম করুণ

যেকোনো ধরনের হালকা ব্যায়াম আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাপমুক্ত করতে পারে । আর হালকা ব্যয়ামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো হাঁটা । মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে বাসার আশেপাশে অথবা খোলা কোন মাঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে পারেন । ব্যায়াম দেহে সেরেটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে যা দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে

 

এতক্ষণ শুনলেন চিন্তামুক্ত থাকার কিছু সহজ ও কার্যকরী টিপস । আপনিও কমেন্ট করে জানাতে পারেন আপনার সমস্যার কথা ।

Facebook Comments
SHARE