‘টেড টকস’-এ শাহরুখ খানের অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্য

0
269
জন পড়েছেন
শাহরুখ খানের অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্য

শাহরুখ খান শুধু একজন বড় অভিনেতাই নন, তিনি মানুষকে অনুপ্রেরনাদায়ী বক্তাও । দেশ বিদেশের বহু নামি দামি প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে গিয়ে বক্তব্য দিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন সবার । তিনি আমেরিকার প্রাচীনতম ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও বক্তব্য দিয়ে এসেছেন । টেড টকস কিছুদিন আগে তাকে আমন্ত্রণ জানায় । তিনি সেখানে কথা বলেছেন তার খ্যাতি, মানবতা আর ভালবাসা নিয়ে । প্রায় ১৮ মিনিট কথা বলেছিলেন । পাই ফিঙ্গার্স মোটিভেশনের পক্ষ থেকে এই পর্বে তার পুরো বক্তব্যটি তুলে ধরা হল ।

প্রথমেই আমি আমার পরিচয় দিয়ে নেই । আমি একজন অভিনেতা, আমার বর্তমান বয়স ৫১ বছর । কিন্তু সিনেমায় আমি এখনো ২১ বছর বয়সী তরুণের চরিত্রে অভিনয় করি । আমার কাজ হচ্ছে স্বপ্ন বিক্রি করা, আমি আমার দেশ ভারতে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে ভালবাসা ফেরি করি । তারা ভাবে আমি হচ্ছি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক । তবে আমি সত্যটা বলে দিচ্ছি, যদি উপস্থিত আপনারা কারো কাছে এই তথ্যটি ফাঁস না করে দেন- আমি আসলে বিশ্বপ্রেমিক নই ।

কিন্তু আমি আমার দেশের মানুষের অনুমান, এবং বিশ্বাসকে অবহেলা করিনা এবং মেনে নিই, আমিই পৃথিবীর সেরা প্রেমিক! আমি এই মাত্র বুঝতে পারলাম, এখানে উপস্থিত অনেক মানুষ আমার সিনেমা দেখেননি এবং যারা আমার কাজ দেখেননি তাদের জন্য আমার মায়া হচ্ছে।
আসলে একজন চলচ্চিত্র তারকার বোধই এমনটাই হওয়া উচিৎ যে কিনা প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী এবং আত্মপ্রকাশে দ্বিধাহীন। এই যে দেখুন, আমার বন্ধু ক্রিস এবং জুলিয়েট আমাকে এখানে ডেকেছে ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের’ নিয়ে কথা বলার জন্য, কিন্তু আমি কথা বলা শুরু করেছি আমার সম্পর্কে। অবশ্য এর একটা কারন আছে, আমি মনে করি ‘মনুষ্যত্ব’ অনেকটা আমার মতোই। ‘মানবতার’ সাথে আমার অনেক মিল রয়েছে। ‘মনুষ্যত্ব’ হচ্ছে আমার মতোই পরিণত একজন অভিনেতা। আমি বলছি সেটা কীভাবে।

ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লীতে আমার জন্ম, আমার বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। আর মা ছিলেন পৃথিবীর সব মায়ের মতোই একজন যোদ্ধা। সাধারণ মানুষের মতোই আমাকে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমার বয়স যখন ২৫ এর কম, তখন আমি আমার মা-বাবাকে হারিয়ে ফেলি। আমার মা-বাবা আমাকে যথেষ্ট যত্ন করার সময় পাননি, তার আগেই তাঁরা মারা যান। আমার এই অগোছালো স্বভাবের কারন হয়তো সেটাই। আমার স্পষ্ট মনে আছে আমার বাবা যেদিন মারা যান, সেদিন আমার এক প্রতিবেশী গাড়িচালক আমাদেরকে হাসপাতালে নিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ফেরার সময় আমাকে গাড়ি চালাতে হয়েছিলো। আমার বয়স তখন মাত্র ১৪ বছর। আমি আমার বাবার মরদেহ গাড়ির পেছনের আসনে রেখে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। আমার মা আমার পাশের আসনে বসা ছিলেন। তিনি প্রচন্ড কান্না করছিলেন, কান্নার মাঝে হঠাৎ তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন ‘ তুমি গাড়ি চালানো কখন শিখলে?’ আমি বলেছিলাম, এইতো মা এখনই! সেই রাত থেকে আমার কাছে মনুষ্যত্ব আমার মতো, মনুষ্যত্বও এভাবে বেঁচে আছে।

সেই রাত থেকে আমি বেঁচে থাকার কৌশলগুলো শিখছি। সত্যি বলতে তখন জীবনের গঠন ছিল সহজ এবং সাধারণ। মানুষ যা পেয়েছে, তাই খেয়েছে। যা করতে বলা হত তাই করেছে। বাড়তি কোন কিছুর প্রতি খুব বেশি ধারণা ছিল না। এই যেমন সিলিয়াক  ছিল আমার কাছে কেবলই একটা সবজি। ভিগান-কে ভাবতাম ‘স্টার ট্রেক’-এ জনাব স্পেকের হারিয়ে ফেলা সহচর। তখন বিষয়টা এমনই ছিল। ধরুন, আপনি কোন একটা মেয়েকে প্রথমবারের মতো ভালবেসেছেন এবং তাকেই আপনি বিয়ে করেছেন। খুব সহজেই আপনাকে প্রযুক্তিবিদ বলে ধরা হতো, যদি আপনি আপনার গাড়ির কারবুরেটর নিজে নিজে ঠিক করতে পারতেন। আপনারা শুনলে হাসবেন, আমি মনে করতাম ‘Gay’ একটা শব্দ যা কিনা, ‘Happy’–এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। আর ‘lesbian’বলতে আমি বুঝতাম এটা অবশ্যই পর্তুগালের রাজধানী। একবার ভাবুন আমি কোথায় ছিলাম!

এরকম চলমান বিশ্বাসের উপর ভর করে আমরা থেকেছি। আমরা খুব সহজেই বিশ্বাস করেছি, সরকার আমাদের জন্য যা কিছুই করুক, তা অবশ্যই ভালো উদ্দেশ্যে করছে এবং উন্নয়নের জন্য করছে। তখন বিজ্ঞান ছিল খুব সহজ এবং অত্যন্ত যৌক্তিক। ‘অ্যাপল’ ছিল কেবলই একটা ফল মাত্র! যা কিনা আদি নারী হাওয়া এবং নিউটনের দখলে ছিল। ‘অ্যাপল’ তখনো পুরোপুরি ‘স্টিভ জবসের’ দখলে আসেনি। জীবন যেখানে নিয়ে যেতে কাজের জন্য সেখানেই যেতাম তখন, এবং সবাই স্বাগত জানাতো। সবচে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, তখন যা কিছু ভাবতাম, তাই বলতে পারতাম। ঠিক আমি যা, তাই হয়ে থাকতে পারতাম। এরপর আমার বয়স যখন ২৫–এর কোটায়, আমি তখন মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরে যাই। তখন জীবনের গঠন বদলাতে থাকে, চিন্তায় পরিবর্তন আসতে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সাথে মিশতে শুরু করি, প্রায় প্রতিটি জিনিসের সংজ্ঞা আমার কাছে পরিষ্কার হতে শুরু করে। সকল কার্যপ্রনালী আমার কাছে তুলনামূলকভাবে কম বিশ্বাস্য মনে হতে থাকে। কিন্তু তখন একটা বিষয় খুব বিস্তর লাভ করে। মানুষের ‘আইডিয়াগুলো’ স্বাধীনভাবে, দ্রুত গতিতে ছড়াতে থাকে। বিশ্বব্যাপী মানুষের মাঝে যে পারস্পারিক সহযোগিতা এবং অতাশ্চর্য্য উদ্ভাবনের ক্ষমতা আমি তা উপলব্ধি করতে শুরু করি, এমনকি আমি আমার নিজের সৃষ্টিসশীলতার দিকেও তাকাই। ঠিক এই সময়টাতে আমি তারকা খ্যাতির শিখরে পৌছে যাই।

আমার বয়স ছিল তখন ৪০ এবং সত্যি সত্যিই আমি তখন খ্যাতির পাখায় ভর করে উড়ছিলাম। ততদিনে আমি ২০০ গান এবং ৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। এমন সময় বিভিন্ন দেশ থেকে আমাকে সম্মাননা দিতে শুরু করে। মালেশিয়ান ‘নাইট’ এবং ফ্রান্স তাদের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে আমাকে সম্মানিত করে। যদিও আমি এখনো পর্যন্ত ফ্রান্সের দেয়া সম্মাননার নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারিনা। এর জন্য আমি ফ্রান্সের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, একই সাথে ফ্রান্সকে ধন্যবাদ আমাকে সম্মানিত করার জন্য। কিন্তু এসবের চেয়েও আমার জন্য মজার ছিলো, আমি তখন এঞ্জেলিনা জোলির সাথে দেখা করার সুযোগ পাই, যদিও তা ছিল খুবই অল্প সময়ের জন্য। আশা করছি তিনিও সেই সাক্ষাতের কথা মনে রেখেছেন। আবার এমনও হতে পারে, আমাদের সেই অল্প সময় সাক্ষাতের কথা তাঁর মনে নেই। এরপরের সময়টাতে কি হলো তা আপনাদের সবারই জানা।

এরপর ইন্টারনেট চলে আসে। পৃথিবী বদলাতে শুরু করে। আমি একের পর এক টুইট করতে শুরু করি। আমার বিশ্বাস ছিল এই নতুন পৃথিবীর সাথে আমাদের স্বপ্ন এবং আইডিয়াগুলো সম্প্রসারিত হবে। যা হবে আমাদের পৃথিবীর জন্য মঙ্গলজনক। সেটা হতে পারে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বা অন্য ক্ষেত্রে। কিন্তু কি হল- এর কিছু ভুল দিক সামনে চলে আসলো। এই যেমন আমি যা বলেছি মানুষ তা নিয়ে সাথে সাথে মন্তব্য করতো, জেনে না জেনে এটা করা হতো। এমনকি আমি যা বলিনি, তা নিয়েও একের পর এক মন্তব্য চলে আসতো। আমাকে জড়িয়ে নানা কথা বলা হতো। একটা ঘটনা বললে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে আপনাদের কাছে। আজ থেকে চার বছর আগে, আমি এবং আমার প্রিয়তম স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাদের আরো একজন সন্তান প্রয়োজন। যখন এটা কোনভাবে মিডিয়ায় প্রচার হলো, তখন মানুষ বলতে শুরু করলো এটা আসলে আমাদের সন্তান নয়। এটা আমার ১৫ বছর বয়সী বড় ছেলের ভালোবাসার সন্তান (Love Child)। যা আমরা গোপন রাখতে চাচ্ছি!

এই ঘটনায় আমি এবং আমার পরিবার খুব কষ্ট পেলাম। কারন আমার বড় ছেলেকে জড়িয়ে যা বলা হচ্ছিলো তা ছিল সম্পূর্ন মিথ্যা। এমনকি কোন একটি মেয়ের সাথে আমার বড় ছেলের একটি নকল ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আমি একটা বিষয় ভালভাবে অনুধাবন করি। তা হচ্ছে, নকল (Virtual) জিনিসগুলোকে দিন দিন সত্যি বলে ধরা হচ্ছে এবং সত্যকে নকল বলে ধরা হচ্ছে। আমার খেয়াল হলো আমি সংকটে আছি, ঠিক যেমনটা সংকটে আছে মনুষ্যত্ব। যদি মনুষ্যত্ব সংকটে না থাকতো তাহলে এমনটা ঘটতো না। আমি খেয়াল করলাম, আমার সাথে সম্পর্ক মাথার তেল থেকে শুরু করে জ্বালানি তেলের। অর্থাৎ আমি এসবের এম্বাসেডর। অপর দিকে মনুষ্যত্বের সম্পর্ক অপরিশোধিত তেল আর পারমাণবিক চুল্লীর সাথে। আমি মডেল হিসেবে তেল-ডিজেল বিক্রি করি আর ‘মনুষ্যত্ব’ তখন অপরিশোধিত তেল আর পারমাণবিক চুল্লীর পেছনে ছুটছে। যা হোক আমি নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করলাম এবং আমি নতুন কিছু করতে চেষ্টা করলাম।

আমি সুপারহিরোর স্যুটের মতো স্যুট পরিধান করলাম (রা ওয়ান), কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি ব্যর্থ হই। তখন আমি বুঝতে পারি, যারা সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, কিংবা স্পাইডারম্যান তাঁরা প্রশংসা পাবার যোগ্য, কারণ এই স্যুট পরা আসলেই কষ্টকর। এরই মধ্যে আমার সিনেমার ‘লুঙ্গি ড্যান্স’ নামের নাচের স্টেপটা সারা দেশে একটি ট্রেন্ড হয়ে যায়। ইন্টারনেট থেকে শুরু করে সর্বত্র এটা নিয়ে আলোচনা হয়। আমি ততদিনে স্যোশাল মিডিয়াতে দারুণ সব কথাবার্তা শেয়ার করতে শুরু করেছি। কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ এমন সব শব্দ আমি দেখতে পেতাম যা প্রথমবারেই আমার পক্ষে বুঝে উঠা সম্ভবপর ছিল না। একদিন আমার সুন্দর একটা টুইটের বিপরীতে দেখতে পেলাম কেউ লিখেছেন ADIDAS. আমি ভাবলাম এত দারুণ এক কথার বিপরীতে কেন একজন ADIDAS লিখল। প্রথমদিকে এমন অনেক অ্যাক্রোনেম আমি বুঝতে পারিনি। যেমন- ROFL, LOL. এগুলোর অর্থ বুঝার জন্য আমার ১৬ বছর বয়সী মেয়েকে ডাকতে হতো।

যা হোক, ‘মনুষ্যত্বে’ ফিরে আসি। আমার বিশ্বাস মনুষ্যত্ব রক্ষায় যদি কিছু করার থাকে তাহলে সেটা করার সময় এই এখন। কারন বর্তমানের ‘আপনারা’ সাহসী, আপনারা উদ্ভাবক, এবং একই সাথে আপনাদের চিন্তাগুলো উর্বর। এই যেমন ধরুন আমি যে দেশ থেকে এসেছি, সে দেশটা সাধারনভাবেই আধ্যাত্বিকতার উৎস। এই আধ্যাত্বিক মনস্তাত্বিকতার মানুষেরাই আমাকে বলিউডের বাদশা বলে, তাঁরাই আমাকে তা বানিয়েছে। আমি একজন মুসলিম এতেও তাদের কোন সমস্যা নেই। আর সবচে বড় কথা আমার এই রকম চেহারা নিয়েও আমি এতদুর এসেছি। এটা মহানুভবতার উদাহরণ। মনুষ্যত্ব আর ভালোবাসার উদাহরণ। তাঁরা আমাকে শিখিয়েছে দারিদ্র্য কিংবা ক্ষমতা কোনকিছুই জীবনের খুব বেশি কিছু পরিবর্তন করতে পারে না। এমনও নয় যে দারিদ্র্যের জন্য আপনার জীবন একেবারে দূর্বিষহ হয়ে উঠবে, আবার এমনও নয় ক্ষমতা থাকলেই আপনি যাদুর কাঠির মাধ্যমে জীবনের সবকিছু অর্জন করে নিবেন। তাঁরা শিখিয়েছে আমাকে- জীবনের সম্মান নির্ভর করে দয়ামায়া, মহানুভবতা এসবের উপর। আমি শিখেছি- কোন কিছু নির্মাণ করতে, সৃষ্টি করতে কিংবা সংগ্রাম করতে বা বেঁচে থাকতে আপনাদের ভেতরে শুধুমাত্র যে তাড়নাটা থাকতে হবে তা হচ্ছে সম্ভবত পৃথিবীর সবচে পুরোনো জিনিস। ভালোবাসা! হ্যাঁ, ভালোবাসাই জীবন।

আমার দেশের কোন এক কবি খুব চমৎকার একটা কথা বলেছেন, আপনি হাজার বই পড়ে জ্ঞানার্জন করে, সেই জ্ঞান প্রযুক্তি খাতে ব্যবহার করে যত সৃষ্টিশীলতায় দেখান না কেন তাতে খুব বেশি লাভ নেই। যদি না তা মানুষের প্রতি, ভালবাসা, প্রেম না জাগায়। ‘প্রেম’ মাত্র দুই বর্ণের একটি শব্দ। ছোট এই শব্দের মানে যদি আপনি বুঝতে পারেন, অনুধাবন করতে পারেন তাহলে এই ছোট শব্দটাই মানবজাতিকে আলোকিত করতে যথেষ্ট। অন্যথায় সবকিছু বিফলে যাবে। আপনাদের সমস্ত উদ্ভাবন, জ্ঞান-বিজ্ঞান সব নিজেকে নিজেই বিনষ্ট করবে। বিষয়টা আপেক্ষিক। আপনি চাইলেই আপনার ক্ষমতা ব্যবহার করে ‘সীমানা প্রাচীর’ তুলে আপনার দেশে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারেন। আবার চাইলেই আপনি ‘সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে বহির্বিশ্বের সবাইকে স্বাগত জানাতে পারেন। আপনার ‘বিশ্বাস’ দিয়ে আপনি চাইলেই মানুষকে ভয় দেখাতে পারেন, আপনার বিশ্বাসে বিশ্বাসী হওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারেন। আবার আপনি চাইলেই সেই বিশ্বাস দিয়ে মানুষকে সাহস যোগাতে পারেন। আপনার কাছে থাকা শক্তি দিয়ে আপনি চাইলেই পারমানবিক বোমা বানাতে পারেন এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারেন, সেই একই শক্তি ব্যবহার করে আপনি মানুষকে আলোকিত করতে পারেন। আপনার অর্জিত সমস্ত সম্পদ আপনি চাইলেই যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন এবং ছোট ছোট ছেলেমেয়ের হাতে মারনাস্ত্র তুলে দিতে পারেন একে-অপরকে খুন করার জন্য। সেই একই সম্পদ দিয়ে আপনি অধিক মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন। সব কিছুই আপনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে, আর সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে আপনার মনে ভালবাসা, প্রেম আছে, কি নেই, তার উপর।

গত কিছুদিন যাবত এখানে সারা বিশ্বের সব রথীমহারথীরা আসেছেন, কথা বলছেন নিজেদের উদ্ভাবন আর সফলতা নিয়ে। এসব কিছু আমরা উদযাপন করতে পারি। কিন্তু আমাদের উচিৎ এই উদযাপনের সাথে আমাদের মায়া-ভালবাসা ছড়িয়ে দেয়া। এটাই হবে মানবতার জন্য উত্তম এবং এটাই হৃদয়ের বিশুদ্ধতা। আপনারা প্রত্যেকেই একেকজন পরিণত চলচ্চিত্র তারকার মতো, যে বিশ্বাস করবে, অবশ্যই এমন একটি পৃথিবী তৈরী করা সম্ভব, যে পৃথিবীটা আমার মতোই সম্পুর্ণভাবে নিজের সাথে নিজে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে নিবে। যে পৃথিবীটাই হবে তার নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেমিক। আমি এমনটাই বিশ্বাস করি।

Facebook Comments
SHARE