শূন্য হাতে বিশ্বসেরা ধনী হয়েছেন যারা

0
2898
জন পড়েছেন
বিশ্বের সেরা ধনী যারা, শূন্য হাতে বিশ্বের সেরা ধনী হয়েছেন যারা

ধনী হতে কে না চায় ? সুন্দর, গাড়ি বাড়ির মালিক হতে আমরা সবাই চাই । কিন্তু ধনী হওয়া কি এতই সহজ ? আমরা চাইলেই যে অর্থ বিত্তের মালিক বনে যেতে পারি না, তা আমরা সবাই জানি । অথচ স্বপ্নটা আছে ষোলো আনা । কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কতজন আছি যারা কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায় করি । আসলে জীবনে সফল হওয়ার কোনো শর্টকাট টেকনিক নেই । যারা আজ বিশ্বের সবচেয়ে ধনীর তালিকায় আছেন তারা প্রত্যেকেই কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর মেধার জোরে এতদূর এসেছেন । কেউ রাতারাতি বড়লোক বনে যাননি । আসুন আজ জানি এরকম কিছু পরিশ্রমী মানুষের গল্প যারা তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে সাফল্যের সাথে পৌছাতে  পেরেছেন ।

শূন্য থেকে বিশ্বসেরা ধনী

আজ শুরু করব আমাদের কমন কিছু অজুহাত দিয়ে। আপনার আশে পাশে নিশ্চয় আপনি এমন মানুষ দেখে থাকবেন যাদের কাছ থেকে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন । যেমনঃ 

> আমার টাকা নাই তাই আমি ব্যবসা করতে পারছি না।

> আমার মামা চাচা নাই তাই চাকরী পাচ্ছি না

> আমি ভাল জায়গায় পড়তে পারিনি তাই জীবনে সফল হতে পারছি না।

অথচ এই সম্ভাবনাময় মানুষগুলোকে যখন বিভিন্ন সফল মানুষের উদাহরন দেওয়া হয়, তারা বলেন এনারা এক্সেপশনাল । Exception is not an example.

অথচ চিন্তা করুন আপনি যদি কঠোর পরিশ্রমের করে ১০ বছর পর আপনার কাঙ্খিত সফলতায় পৌঁছান তখন আপনার আশেপাশের মানুষগুলোও আপনাকে নিয়ে বলবে উনি এক্সেপশনাল। এক্সেপশনাল কেউ জন্মগত ভাবে হয় না, আমাদের মাঝে যে লোকটি মেধা শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে অন্য আর ১০ জনের চেয়ে আলাদা করে ফেলে, তাকেই আমরা এক্সেপশনাল বলি। 

আজকে আমরা এমন কিছু মানুষকে নিয়ে কথা বলবো, যারা শূন্য থেকে হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিত্ব। যাদের একসময় কিছুই ছিল না। চলুন শুরু করা যাক সেইসব জিরো থেকে হিরো হওয়া মানুষগুলোর কথা আর শুরু করার আগে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকন টিতে ক্লিক করে ফেলুন।   

১.

CEO of Whats app

হোয়াটসঅ্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও । হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠার আগে তিনি খুব ছোট একটি চাকরি করতেন । একসময় ইউক্রেন থেকে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পাড়ি জমান আমেরিকা । সেই শূন্য হাতে আসা মানুষটি আজ হোয়াটসঅ্যাপের কল্যানে বিশ্বাসেরা ধনীদের একজন । তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ।  

 

 

jack ma

২.

তিনি ছিলেন একজন সামান্য ইংরেজির শিক্ষক । জন্ম এবং বেড়ে উঠা চিনে । ১৯৯৫ সালে আমেরিকা এসে প্রথম ইন্টারনেট সম্পর্কে জানতে পারেন । তারপর নিজ দেশে ফিরে গিয়ে ১৯৯৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আলিবাবা । আলিবাবা বহু আগেই ব্যবসার দিক থেকে আমাজনকে ছাড়িয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে । বর্তমানে জ্যাক মা’র সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলাদের মতো । বিশ্বের সেরা ধনীদের কাতারে আছেন জ্যাক মা ।    

 

 

এলিজাবেথ হোমস

৩.

এলিজাবেথ হোমস । এক ফোঁটা রক্ত থেকে দেহের সব তথ্য খুঁজে বের করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন তিনি । তার এই আবিষ্কার  তাকে বানিয়েছে বিলিওনিয়ার । তার প্রতিষ্ঠানের নাম থেরানস, যা তাকে টাকার দৌড়ে শীর্ষধনীদের সাথে সমান তালে সামনের নিয়ে নিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলছে । 

৪.

সুইডেনের একটি ফার্মে বেড়ে উঠেছিলেন ইনগভার ক্যাম্প্রাড । পেন্সিল, গ্রিটিং কার্ড ইত্যাদি দিয়ে শুরু তার প্রচেষ্টা । তার সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগটিই আজ ৩.৯ বিলিয়ন ডলারের আইকেইএ কম্পানিতে পরিণত হয়েছে। আর ইনগভার হয়েছেন বিশ্বধনীদের একজন । 

৫.

হাওয়ার্ড শালচজ । স্টারবাক্সের মালিক । তিনি একসময় থাকতেন দরিদ্রদের জন্য তৈরি করা বিশেষ বাড়িতে । জীবনের নানান ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছেন তিনি । ইউনিভার্সিটি অব নর্দান মিশিগান-এ একটি ফুটবল স্কলারশিপ পান । পরবর্তীতে সেখানেই তিনি স্টারবাক্স যাউ নামে একটি কফিশপ দেন । এই স্টারবাক্সের বর্তমান মূল্য ২.১ বিলিয়ন ডলার । বিভিন্ন দেশে যার ১৬ টি শাখা আছে ।    

Oprah Winfrey

.

গরীব ঘরে জন্ম নিয়ে অপরাহ উইনফ্রে প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান টিভি করেসপন্ডেন্ট হন । তার জন্মস্থান নাশভিলে । ‘অপরাহ উইনফ্রে শো’ এর মাধ্যমে তিনি ৩ বিলিয়ন ডলারের মালিক ।

 

 

 

 

Shahid Khan

৭.

আমেরিকা গিয়ে বাসন মাজতেন পাকিস্তানের শাহীদ খান। সেখান থেকেই তিনি ফ্লেক্স-এন-গেট এর মালিক হয়েছেন যার মূল্য ৪.৪ বিলিয়ন ডলার।

 

 

৮.

পরিবার চালাতে ১০ বছর বয়সে ক্রিসমাস কার্ড বিক্রি করতেন জন পল ডি জোরিয়া । একবার ৭০০ ডলার ঋণ করে তিনি চুলের যত্নে শ্যাম্পু বানিয়ে তা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিক্রি করতেন। আজ তিনি ৩.২ বিলিয়ন ডলারের জন পল মিচেল সিস্টেম এবং প্যাট্রন টাকিলার মালিক।

৯.

একটি গ্যাস স্টেশনের তত্ত্ববধায়ক হিসেবে কাজ করতেন ডো ওন। কোরিয়া থেকে ১৯৮১ সালে আমেরিকায় আসার ৩ বছর পর একটি কাপড়ের দোকান দেন যার নাম ‘ফরএভার ২১’। এটি আজ ৫.২ বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান।

POLO by Raloh Lauren

১০.

ব্রুক ব্রাদারস-এ একজন ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন রালফ লরেন। ১৯৬৭ সালে তিনি পুরুষদের পোশাকে টাই-কে সংযুক্ত করেন। আজে তিনি ৭.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের  ‘পোলো’র মালিক।

 

 

 

 

১১.

বিধবা মা তার পাঁচ ছেলের একজনকে অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে দেন। ছেলেটির নাম ছিলো লিওনার্দো দেল ভেচিও। একটি মোল্ডিং কারখানায় কাজ করার সময় হাতের একটি আঙ্গুল খোয়ান। তেইশ বছর বয়সে নিজের মোল্ডিং শপ খোলেন যা আজ ১৮.৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ।

১২.

নাৎসিরা হাঙ্গেরি দখর দিলে সেখান থেকে পালিয়ে লন্ডনে আসেন জর্জ সোরোস। নিউ ইয়র্কের একটি ব্যাংকে চাকরি জুটিয়ে নেন তিনি। ১৯৯২ সালে ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে তার বিখ্যাত বেট আজ তাকে ২৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক বানিয়ে দিয়েছে।

১৩.

মা মারা যাওয়ার পর খালার কাছে বড় হয়েছেন ল্যারি এলিসন। ১৯৭৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তার সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান ওরাকল। আজ তিনি ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মালিক।

success

১৪.

১৮ মাস বয়সে মা মারা যাওয়ার পর অনাথ হয়ে বড় হয়েছেন রোমান আব্রাহামোভিচ । কলেজে পড়ার সময় তিনি তেল জাতীয় পণ্য পাঠাতেন সাইবেরিয়ায় । ১৯৯২ সালে তার জীবনে পরিবর্তন আসে যখন রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী টাইকুন বোরিস বেরেজোভস্কির সুনজরে পড়েন তিনি। মামলা-মোকদ্দমায় পড়ে ব্রিটেন পালিয়ে যান বোরিস এবং তার বিশাল ব্যবসা সাম্রাজ্যের অধিপতি হন আব্রাহামোভিচ। আজ তিনি ৯.৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে রাশিয়ার সেরা ধনীদের একজন। আজ তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইয়ট, একটি বোয়িং ৭৬৭ এবং চেলসি ফুটবল ক্লাবের মালিক।

আপনার আশে পাশে যদি এমন কোন মানুষ থাকে যার এই লেখাটি পড়া উচিত বলে মনে করেন , তার সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন । অনুপ্রেরণামূলক গল্প, সফল ব্যক্তিদের জীবনী, সফলতার সূত্র এবং জীবনের নানান সমস্যা আপনাদের পাশে আছে পাই ফিঙ্গার্স মোটিভেশন । আর আগামী পর্বে আপনি কোন বিষয়ে লেখা চান কমেন্ট করে জানান । ভাল থাকুন ।

সফলতা কেবল আপনার জন্যই ।  

Facebook Comments
SHARE